✦ তাজা মসলা, খাঁটি স্বাদ — প্রথম অর্ডারে ১০% ছাড়! Shop Now

মুরগির স্টু

গোলমরিচের উষ্ণতায় রাঁধা হালকা, পরিষ্কার ঝোলের মুরগির স্টু—অসুস্থ শরীর, ছোট শিশু বা শীতের সন্ধ্যার জন্য বাঙালি ঘরের চিরচেনা আরাম; সহজ ও ঝটপট রেসিপি।

প্রস্তুতি ২০ মিনিট রান্না ৪০ মিনিট মোট সময় ১ ঘণ্টা পরিবেশন ৪ জনের পরিবেশন কাঠিন্য সহজ ক্যালরি ২৯০ kcal
মুরগির স্টু সদ্য রান্না

জ্বর থেকে উঠেছেন, বাচ্চার মুখে রুচি নেই, কিংবা শীতের সন্ধ্যায় ভারী কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না—বাঙালি ঘরে তখনই চুলায় ওঠে এক হাঁড়ি মুরগির স্টু। এটি ঝাল-মসলায় ভরা ভুনা তরকারি নয়; বরং ঠিক উল্টো—সংযমই এই রান্নার আসল পরিচয়। ঝোল থাকে পরিষ্কার ও হালকা, মাংস থাকে নরম, আর উষ্ণতাটুকু আসে মরিচ থেকে নয়, গোলমরিচ থেকে। এই মুরগির স্টু রেসিপিতে শিখবেন কীভাবে ঝোল ঘোলা না করে, সবজি না গলিয়ে, আর গোলমরিচের ঘ্রাণ না মেরে ফেলে নিখুঁত চিকেন স্টু রাঁধবেন—প্রতিটি ধাপের পেছনের কারণসহ।

এক নজরে: হাড়সহ মুরগি, আদা, রসুন, তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ ও লবণ দিয়ে অল্প আঁচে ২০–২৫ মিনিট ফুটিয়ে হালকা স্টক বানান, ওপরের ফেনা ছেঁকে তুলুন; এরপর শক্ত সবজি (আলু, গাজর) আগে আর নরম সবজি (পেঁপে, বিন) পরে—ধাপে ধাপে দিন; নামানোর ২ মিনিট আগে গোলমরিচ গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। কখনোই টগবগ করে ফোটাবেন না—তাতে ঝোল ঘোলা হয় ও মাংস ছিঁড়ে যায়। প্রস্তুতি ২০ মিনিট, রান্না ৪০ মিনিট, ৪ জনের পরিবেশন।

মুরগির স্টু কেন হালকাই থাকে

ভুনা তরকারিতে আমরা মসলা কষিয়ে, তেল ছাড়িয়ে, রঙ গাঢ় করে স্বাদ তৈরি করি। মুরগির স্টুতে ঠিক তার উল্টো কাজটা করতে হয়—এখানে স্বাদ আসে ধীরে ফোটা হাড়-মাংসের নিজের রস থেকে, আর মসলার কাজ শুধু সেই রসকে একটু উষ্ণ ও সুগন্ধি করে তোলা। তাই এখানে হলুদ বা মরিচ গুঁড়া কার্যত থাকেই না—দিলে ঝোল ঘোলাটে হলুদ হয়ে যায়, আর স্টু আর স্টু থাকে না, পাতলা তরকারি হয়ে যায়।

উষ্ণতার পুরো ভারটা নেয় গোলমরিচ, আর এখানেই একটা সত্যিকারের কৌশল লুকিয়ে আছে—কালো আর সাদা গোলমরিচ এক জিনিস নয়। দুটোই আসে একই গাছ থেকে (Piper nigrum), পার্থক্য শুধু প্রস্তুত করার পদ্ধতিতে: কাঁচা ফল শুকিয়ে হয় কালো গোলমরিচ—তীক্ষ্ণ, সুগন্ধি, একটু কামড় দেয়; আর পাকা বীজের খোসা ছাড়িয়ে শুকিয়ে হয় সাদা গোলমরিচ—ঝাঁঝ গোলগাল ও মাটি-মাটি, কিন্তু ঝোলে কালো দাগ পড়ে না। স্টুর মতো ফ্যাকাশে-পরিষ্কার পদে অনেক রাঁধুনি তাই দুটোই দেন: সাদা গোলমরিচ ঝোলের ভেতরে উষ্ণতা বসাতে, আর কালো গোলমরিচ ওপরে ছিটিয়ে ঘ্রাণ ও কামড়ের জন্য।

মজার ব্যাপার—এই একই সাদা গোলমরিচই রেজালা বা রোস্টে ব্যবহার হয় ঠিক একই কারণে: সেখানেও ঝোল সাদাটে-হালকা রাখতে হয়, তাই কালো দাগ চলে না। পার্থক্য শুধু মাত্রায়—রেজালায় সাদা গোলমরিচ দই-বাদামের পেছনে একটা চাপা উষ্ণতা হয়ে থাকে, আর স্টুতে সে-ই প্রধান চরিত্র। মসলা কোন পদে কোন ভূমিকায় বসে, সেটা বুঝতে পড়ে দেখতে পারেন মসলা দেওয়ার ৫টি স্তর

উপকরণ (৪ জনের পরিবেশন)

উপকরণপরিমাণ
মুরগি (হাড়সহ, মাঝারি টুকরা)৭০০ গ্রাম
আলু (বড় টুকরা)২টি মাঝারি
গাজর (মোটা করে কাটা)১টি বড়
কাঁচা পেঁপে (ডুমো করে কাটা)১ কাপ
বিন (২ ইঞ্চি টুকরা)আধা কাপ
পেঁয়াজ (মোটা কুচি বা ফালি)১টি বড়
আদা গুঁড়া (বা আদা বাটা ১ চা-চামচ)আধা চা-চামচ
রসুন গুঁড়া (বা রসুন বাটা ১ চা-চামচ)আধা চা-চামচ
তেজপাতা২টি
সবুজ এলাচ৩টি
লবঙ্গ৩টি
সাদা গোলমরিচ গুঁড়াআধা চা-চামচ
কালো গোলমরিচ গুঁড়াআধা চা-চামচ (শেষে)
তেল বা মাখন১ টেবিল চামচ
লবণদেড় চা-চামচ (স্বাদমতো)
পানি৫ কাপ

উপকরণ নিয়ে নোট

  • কালো গোলমরিচ গুঁড়া: এই রান্নার প্রধান মসলা। কৌটা খুললেই যদি নাকে তীব্র, প্রায় ঝাঁঝালো সুগন্ধ লাগে—সেটাই তাজা। ভাঙানো গোলমরিচ দ্রুত ঘ্রাণ হারায়, আর ঘ্রাণ চলে গেলে পড়ে থাকে শুধু রুক্ষ তেতো ঝাঁঝ। স্টু সেই পার্থক্যটা লুকাতে পারে না।
  • সাদা গোলমরিচ গুঁড়া: ঝোলের ভেতরের উষ্ণতা—গোলগাল, মাটি-মাটি, কালো দাগ ছাড়া। না থাকলে শুধু কালো গোলমরিচেই চলবে, ঝোলে হালকা ছিট পড়বে মাত্র—স্বাদ নষ্ট হবে না।
  • লবণ: স্টুতে লবণের ভুল সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে, কারণ আড়াল করার মতো ঝাল-মসলা এখানে নেই। অল্প অল্প করে দিন, প্রতিবার চেখে দেখুন—ঝোল ফুটে কমে গেলে লবণ আপনা-আপনিই বাড়ে।
  • তেজপাতা, সবুজ এলাচলবঙ্গ: গোটাই দিন, গুঁড়া নয়—গোটা মসলা ধীরে ঘ্রাণ ছাড়ে আর ঝোল পরিষ্কার রাখে। এলাচ থেঁতো করে দিলে ঘ্রাণ ভালো খোলে; লবঙ্গ ৩টির বেশি নয়, বেশি হলে ওষুধ-ওষুধ স্বাদ এসে যায়।
  • আদা গুঁড়ারসুন গুঁড়া: তাজা আদা-রসুন বাটা হাতের কাছে থাকলে সেটাই সেরা—এতে ঝোলে একটা তাজা ঝাঁঝ থাকে। তবে অসুস্থ শরীরে বা তাড়াহুড়োয় বাটাবাটির ঝামেলা এড়াতে গুঁড়া দিব্যি কাজ চালায়; গুঁড়া বেশি ঘনীভূত, তাই বাটার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ যথেষ্ট।
  • সবজি: আলু-গাজর-পেঁপে-বিন—যা ঘরে আছে চলবে। শুধু মনে রাখুন সবগুলোর সেদ্ধ হওয়ার সময় আলাদা, তাই একসাথে দেওয়া যাবে না। কাটুন মোটা করে; পাতলা কাটলে ঝোলে গলে মিশে গিয়ে ঘোলা করে দেবে।

ধাপে ধাপে প্রস্তুত প্রণালী

  1. মুরগি ধুয়ে গুছিয়ে নিন: হাড়সহ মুরগি মাঝারি টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। চামড়া ছাড়িয়ে ফেলুন—চামড়া থাকলে ঝোলে চর্বির একটা তেলতেলে স্তর ভাসে, আর স্টুর পুরো আবেদনই তো হালকা থাকায়। হাড় অবশ্যই রাখবেন: ঝোলের সমস্ত স্বাদ ও শরীর আসে হাড় থেকেই, বোনলেস মুরগিতে স্টু পানসে হয়ে যায়।
  2. হালকা স্টক বসান: হাঁড়িতে তেল বা মাখন গরম করে পেঁয়াজ ফালি ছেড়ে দিন—কিন্তু বাদামি করবেন না, শুধু নরম ও স্বচ্ছ হওয়া পর্যন্ত। পেঁয়াজ বাদামি হলেই ঝোলে বাদামি রঙ আর ভুনা-মিষ্টি স্বাদ ঢুকে পড়ে, যা স্টুতে বেমানান। এবার মুরগি, আদা, রসুন, তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ, সাদা গোলমরিচ ও অল্প লবণ দিয়ে ২ মিনিট নেড়ে ৫ কাপ পানি ঢেলে দিন।
  3. ফেনা তুলুন, তারপর ফুটতে দিন—টগবগ নয়: পানি ফুটতে শুরু করলে ওপরে ধূসর ফেনা জমবে—চামচ দিয়ে সেটা তুলে ফেলে দিন। এই ফেনাই ঝোল ঘোলা করে ও একটা কাঁচা গন্ধ রেখে যায়। ফেনা তোলা হলে আঁচ কমিয়ে এমন করুন যেন ঝোলের গায়ে মাঝেমধ্যে টুপটুপ করে বুদবুদ ওঠে—রোলিং বয়েল কখনোই নয়। টগবগ ফুটলে চর্বি ভেঙে ঝোলের সাথে মিশে যায় (ঝোল ঘোলা), আর মাংস ছিঁড়ে সুতোর মতো হয়ে যায়। এভাবে ঢেকে ২০–২৫ মিনিট রাখুন।
  4. শক্ত সবজি আগে: মুরগি প্রায় নরম হয়ে এলে আলু ও গাজর দিন। এদের সেদ্ধ হতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই এরা যায় সবার আগে। ১০ মিনিট মতো একই মৃদু আঁচে রাখুন—আলুর গায়ে কাঁটা ঢুকলে সামান্য বাধা লাগবে, একদম গলে যাবে না, এটাই ঠিক অবস্থা।
  5. নরম সবজি পরে: এবার কাঁচা পেঁপে দিন, ৫ মিনিট পর বিন। পেঁপে দ্রুত নরম হয় আর বিন তো আরও দ্রুত—শুরুতেই দিলে দুটোই গলে ঝোলে মিশে যেত। সবজি ধাপে ধাপে দেওয়ার পুরো কারণটাই এই: সব সবজি একই সময়ে দিয়ে দিলে হয় আলু কাঁচা থাকে, নয়তো বিন গলে যায়—মাঝামাঝি কোনো রাস্তা নেই। প্রতিটি সবজি নিজের সময়টুকু পেলে প্রতিটির আলাদা স্বাদ ও কামড় ঝোলে বেঁচে থাকে।
  6. লবণ চেখে ঠিক করুন: সবজি সেদ্ধ হয়ে এলে চুলা থেকে এক চামচ ঝোল তুলে চেখে দেখুন। স্টুর ভালো-মন্দ বিচার হয় লবণের ভারসাম্যে—এখানে ঢাকার মতো কোনো তীব্র মসলা নেই। কম মনে হলে সামান্য লবণ দিন, নেড়ে এক মিনিট পর আবার চাখুন। মনে রাখবেন, ঝোল যত ফুটে কমবে লবণ তত চড়া হবে, তাই শেষ দিকে হাত হালকা রাখুন।
  7. গোলমরিচ একদম শেষে: নামানোর ঠিক ২ মিনিট আগে কালো গোলমরিচ গুঁড়া ছড়িয়ে আলতো নেড়ে দিন, চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এই টাইমিংটাই এই রেসিপির সবচেয়ে কাজের শিক্ষা। গোলমরিচের সুগন্ধ আসে উদ্বায়ী তেল থেকে—শুরুতে দিয়ে আধা ঘণ্টা ফোটালে সেই তেল বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, পড়ে থাকে শুধু রুক্ষ, একঘেয়ে তেতো ঝাঁঝ। শেষে দিলে ঢাকনা খোলার সাথে সাথে নাকে এসে লাগে সেই গরম, তাজা ঘ্রাণ—যেটার জন্যই আসলে স্টু রাঁধা।

টিপস ও সাধারণ ভুল

  • গোলমরিচ শেষে, সবসময়: লম্বা সময় ফোটালে গোলমরিচের ঘ্রাণ উড়ে গিয়ে শুধু তেতো ভাবটা থেকে যায়। নামানোর ২ মিনিট আগে দিন—পার্থক্যটা ঢাকনা খুললেই টের পাবেন।
  • ঝোল পরিষ্কার রাখতে হলে ধৈর্য লাগে: ফেনা তুলুন, আর কখনো টগবগ করে ফোটাবেন না। মৃদু আঁচে ধীরে ফোটা ঝোলই স্বচ্ছ, সোনালি ও পরিষ্কার হয়।
  • গোটা মসলা, গুঁড়া নয়: তেজপাতা-এলাচ-লবঙ্গ গোটা দিলে ঘ্রাণ ধীরে ছাড়ে আর ঝোল ঘোলা হয় না; গুঁড়া দিলে ঝোলে পলি জমে ঘোলাটে দেখায়।
  • তাজা ভাঙানো গোলমরিচের কোনো বিকল্প নেই: গোলমরিচ ভাঙানোর পর সবচেয়ে দ্রুত ঘ্রাণ হারানো মসলাগুলোর একটি—তাই অল্প করে কিনুন, বায়ুরোধী কৌটায় রাখুন। কীভাবে ঘরেই তাজা ভাঙিয়ে নেবেন দেখুন এখানে, আর ঘ্রাণ ধরে রাখার উপায় জানুন এই লেখায়
  • বোনলেস মুরগি এড়িয়ে চলুন: স্টুর শরীর ও গভীরতা পুরোটাই আসে হাড় থেকে। হাড়ছাড়া মাংসে ঝোল হয় পানির মতো পানসে।
  • মাখন এক চামচই যথেষ্ট: শেষে সামান্য মাখন দিলে ঝোলে একটা মোলায়েম ভাব আসে, কিন্তু বেশি দিলে ওপরে চর্বির স্তর ভেসে হালকা ভাবটাই নষ্ট হয়।

মুরগির স্টুর ভিন্নতা ও প্রচলিত প্রশ্ন

  • হলুদ দেওয়া যাবে কি: অনেকেই অভ্যাসবশত এক চিমটি হলুদ দিয়ে ফেলেন। দিলে ভুল হবে না, কিন্তু তখন আর সেটা স্টু থাকে না—হালকা মুরগির ঝোল হয়ে যায়। স্টুর পরিচয়ই তার ফ্যাকাশে, পরিষ্কার ঝোল। প্রথমবার অন্তত হলুদ ছাড়াই রেঁধে দেখুন।
  • দুধ-সাদা কন্টিনেন্টাল স্টু: কলকাতার ডাক্রে’স লেনের বিখ্যাত সাদা স্টুতে শেষে দুধ ও ময়দার মিশ্রণ দিয়ে ঝোল ঘন দুধ-সাদা করা হয়। সেটি আলাদা ঘরানার রান্না—বাংলাদেশি ঘরের স্টু পাতলা ও স্বচ্ছই থাকে।
  • শীতের সবজি স্টু: শীতকালে ফুলকপি, শিম বা মটরশুঁটি যোগ করুন—তবে সেই একই নিয়ম, শক্তটা আগে, নরমটা পরে।
  • শিশুর জন্য: কালো গোলমরিচ একদম সামান্য দিন বা বাদ দিন, শুধু সাদা গোলমরিচে হালকা উষ্ণতা রাখুন; সবজি একটু বেশি নরম করে নিন।
  • ডিম স্টু: মুরগির বদলে সেদ্ধ ডিম দিয়েও একই কায়দায় করা যায়—তবে হাড়ের স্বাদ না থাকায় ঝোলে একটু বেশি সময় ফোটানো লাগে।

কীসের সাথে পরিবেশন করবেন

গরম গরম বাটিতে তুলে ওপরে আরেক চিমটি কালো গোলমরিচ আর সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। স্টু খেতে সবচেয়ে ভালো লাগে নরম রুটির সাথে—ঝোলে ডুবিয়ে ডুবিয়ে; পাউরুটি টোস্ট বা সাদা ভাতের সাথেও চমৎকার। অসুস্থ কারও জন্য রাঁধলে শুধু ঝোলটুকু আলাদা বাটিতে গরম গরম দিন—সেটাই সবচেয়ে আরামের।

সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম

স্টু ফ্রিজে বাতাসবন্ধ পাত্রে ২ দিন ভালো থাকে, আর মজার ব্যাপার—পরদিন হাড়ের স্বাদ আরও গভীর হয়ে বসে যায়। গরম করার সময় অল্প আঁচে ধীরে গরম করুন, ফোটাবেন না—ফোটালে সবজি গলে যায় ও ঝোল ঘোলা হয়। গরম করার পর নতুন করে এক চিমটি গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন, কারণ আগের দিনের গোলমরিচের ঘ্রাণ ততক্ষণে মিইয়ে গেছে। ফ্রিজারে রাখলে সবজি নেতিয়ে যায়, তাই স্টু ফ্রিজ করার পরামর্শ দিই না।

পুষ্টিগুণ (আনুমানিক, প্রতি পরিবেশন)

প্রতি পরিবেশনে আনুমানিক ২৯০ ক্যালরি, প্রোটিন ~২৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ~১৮ গ্রাম, ফ্যাট ~১২ গ্রাম। তেল কম, ভুনা নেই, সবজি বেশি—তাই বাঙালি মাংসের পদগুলোর মধ্যে স্টু সবচেয়ে হালকাগুলোর একটি, আর হাড়সহ মুরগি ভালো মানের প্রোটিনের উৎস। ঐতিহ্যগতভাবে ঘরে ঘরে অসুস্থ শরীরে স্টু খাওয়ানোর চল আছে, আর গোলমরিচকেও (যার ঝাঁঝ আসে পিপারিন থেকে) প্রচলিতভাবে হজম ও ঠান্ডা-কাশিতে উপকারী বলা হয়—তবে এটি খাবার, ওষুধ নয়। কোনো অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শই মুখ্য; পরিমাণ নির্ভর করে মাংস, তেল ও সবজির অনুপাতের ওপর।

সাধারণ প্রশ্ন

মুরগির স্টুতে হলুদ দেওয়া যায় না কেন?

দেওয়া যায়, কিন্তু দিলে ঝোল হলুদ ও ঘোলাটে হয়ে যায় এবং সেটি আর স্টু থাকে না—হালকা মুরগির ঝোল হয়ে যায়। স্টুর পুরো পরিচয়ই তার ফ্যাকাশে, পরিষ্কার ঝোল আর সংযত মসলা। উষ্ণতাটুকু এখানে মরিচ বা হলুদ নয়, গোলমরিচ থেকে আসে।

স্টুতে কালো নাকি সাদা গোলমরিচ দেব?

সবচেয়ে ভালো হয় দুটোই—সাদা গোলমরিচ ঝোলের ভেতরে দিন, এটি গোলগাল ও মাটি-মাটি উষ্ণতা দেয় আর ঝোলে কালো দাগ পড়তে দেয় না; আর কালো গোলমরিচ নামানোর আগে ওপরে ছিটিয়ে দিন, এটি তীক্ষ্ণ ঘ্রাণ ও কামড় আনে। শুধু একটি থাকলেও স্টু ভালোই হবে, স্বাদ কিছুটা আলাদা লাগবে মাত্র।

স্টুর ঝোল ঘোলা হয়ে যায় কেন?

মূল কারণ দুটি—টগবগ করে ফোটানো, আর শুরুর ফেনা না তোলা। জোরে ফুটলে চর্বি ভেঙে ঝোলের সাথে মিশে যায় এবং মাংস ছিঁড়ে যায়। মৃদু আঁচে টুপটুপ বুদবুদ ওঠার মতো করে ফোটান আর ওপরের ধূসর ফেনা চামচে তুলে ফেলুন—ঝোল স্বচ্ছ থাকবে।

গোলমরিচ কখন দিতে হয়?

নামানোর ঠিক ২ মিনিট আগে। গোলমরিচের সুগন্ধ আসে উদ্বায়ী তেল থেকে, যা দীর্ঘক্ষণ ফোটালে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়—তখন ঘ্রাণ চলে গিয়ে শুধু রুক্ষ তেতো ঝাঁঝ পড়ে থাকে। শেষে দিলে ঢাকনা খুলতেই তাজা, গরম ঘ্রাণটা পাবেন।

সব সবজি একসাথে দিলে সমস্যা কী?

প্রতিটি সবজির সেদ্ধ হওয়ার সময় আলাদা। একসাথে দিলে হয় আলু-গাজর কাঁচা থেকে যাবে, নয়তো বিন ও পেঁপে গলে ঝোলে মিশে গিয়ে ঘোলা করে দেবে। তাই আলু-গাজর আগে দিন, ১০ মিনিট পর পেঁপে, আর সবার শেষে বিন।

বোনলেস মুরগি দিয়ে স্টু হবে?

হবে, তবে স্বাদ অনেক কম হবে। স্টুর ঝোলের পুরো গভীরতা ও শরীর আসে হাড় ধীরে ফোটার সময় ছাড়া রস থেকে—হাড় ছাড়া ঝোল প্রায় পানির মতো পানসে লাগে। হাড়সহ মাঝারি টুকরাই সবচেয়ে ভালো।

প্রণালী

  1. মুরগি ধুয়ে গুছিয়ে নিন: হাড়সহ মুরগি মাঝারি টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। চামড়া ছাড়িয়ে ফেলুন—চামড়া থাকলে ঝোলে চর্বির একটা তেলতেলে স্তর ভাসে, আর স্টুর পুরো আবেদনই তো হালকা থাকায়। হাড় অবশ্যই রাখবেন: ঝোলের সমস্ত স্বাদ ও শরীর আসে হাড় থেকেই, বোনলেস মুরগিতে স্টু পানসে হয়ে যায়।

  2. হালকা স্টক বসান: হাঁড়িতে তেল বা মাখন গরম করে পেঁয়াজ ফালি ছেড়ে দিন—কিন্তু বাদামি করবেন না, শুধু নরম ও স্বচ্ছ হওয়া পর্যন্ত। পেঁয়াজ বাদামি হলেই ঝোলে বাদামি রঙ আর ভুনা-মিষ্টি স্বাদ ঢুকে পড়ে, যা স্টুতে বেমানান। এবার মুরগি, আদা, রসুন, তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ, সাদা গোলমরিচ ও অল্প লবণ দিয়ে ২ মিনিট নেড়ে ৫ কাপ পানি ঢেলে দিন।

  3. ফেনা তুলুন, তারপর ফুটতে দিন—টগবগ নয়: পানি ফুটতে শুরু করলে ওপরে ধূসর ফেনা জমবে—চামচ দিয়ে সেটা তুলে ফেলে দিন। এই ফেনাই ঝোল ঘোলা করে ও একটা কাঁচা গন্ধ রেখে যায়। ফেনা তোলা হলে আঁচ কমিয়ে এমন করুন যেন ঝোলের গায়ে মাঝেমধ্যে টুপটুপ করে বুদবুদ ওঠে—রোলিং বয়েল কখনোই নয়। টগবগ ফুটলে চর্বি ভেঙে ঝোলের সাথে মিশে যায় (ঝোল ঘোলা), আর মাংস ছিঁড়ে সুতোর মতো হয়ে যায়। এভাবে ঢেকে ২০–২৫ মিনিট রাখুন।

  4. শক্ত সবজি আগে: মুরগি প্রায় নরম হয়ে এলে আলু ও গাজর দিন। এদের সেদ্ধ হতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই এরা যায় সবার আগে। ১০ মিনিট মতো একই মৃদু আঁচে রাখুন—আলুর গায়ে কাঁটা ঢুকলে সামান্য বাধা লাগবে, একদম গলে যাবে না, এটাই ঠিক অবস্থা।

  5. নরম সবজি পরে: এবার কাঁচা পেঁপে দিন, ৫ মিনিট পর বিন। পেঁপে দ্রুত নরম হয় আর বিন তো আরও দ্রুত—শুরুতেই দিলে দুটোই গলে ঝোলে মিশে যেত। সবজি ধাপে ধাপে দেওয়ার পুরো কারণটাই এই: সব সবজি একই সময়ে দিয়ে দিলে হয় আলু কাঁচা থাকে, নয়তো বিন গলে যায়—মাঝামাঝি কোনো রাস্তা নেই। প্রতিটি সবজি নিজের সময়টুকু পেলে প্রতিটির আলাদা স্বাদ ও কামড় ঝোলে বেঁচে থাকে।

  6. লবণ চেখে ঠিক করুন: সবজি সেদ্ধ হয়ে এলে চুলা থেকে এক চামচ ঝোল তুলে চেখে দেখুন। স্টুর ভালো-মন্দ বিচার হয় লবণের ভারসাম্যে—এখানে ঢাকার মতো কোনো তীব্র মসলা নেই। কম মনে হলে সামান্য লবণ দিন, নেড়ে এক মিনিট পর আবার চাখুন। মনে রাখবেন, ঝোল যত ফুটে কমবে লবণ তত চড়া হবে, তাই শেষ দিকে হাত হালকা রাখুন।

  7. গোলমরিচ একদম শেষে: নামানোর ঠিক ২ মিনিট আগে কালো গোলমরিচ গুঁড়া ছড়িয়ে আলতো নেড়ে দিন, চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এই টাইমিংটাই এই রেসিপির সবচেয়ে কাজের শিক্ষা। গোলমরিচের সুগন্ধ আসে উদ্বায়ী তেল থেকে—শুরুতে দিয়ে আধা ঘণ্টা ফোটালে সেই তেল বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, পড়ে থাকে শুধু রুক্ষ, একঘেয়ে তেতো ঝাঁঝ। শেষে দিলে ঢাকনা খোলার সাথে সাথে নাকে এসে লাগে সেই গরম, তাজা ঘ্রাণ—যেটার জন্যই আসলে স্টু রাঁধা।

শেফের টিপস

  • গোলমরিচ শেষে, সবসময়: লম্বা সময় ফোটালে গোলমরিচের ঘ্রাণ উড়ে গিয়ে শুধু তেতো ভাবটা থেকে যায়। নামানোর ২ মিনিট আগে দিন—পার্থক্যটা ঢাকনা খুললেই টের পাবেন।

পুষ্টিগুণ (প্রতি পরিবেশন)

২৯০ক্যালরি
28 gপ্রোটিন
18 gশর্করা
12 gফ্যাট

এই রেসিপি রেট করুন

রান্না করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা জানান।

রান্না করেছেন? — রেসিপিটি শেয়ার করুন
এই রেসিপির মসলা · SHOP THE SPICES

একই স্বাদ ঘরে আনুন — আমরা যে পণ্যগুলো ব্যবহার করেছি

এই রেসিপিতে ব্যবহৃত SpiceGhor-এর সদ্য তৈরি পণ্যগুলো — এক ক্লিকে কার্টে যোগ করুন, আমরা দরজায় পৌঁছে দিই।